জীবিকার প্রয়োজনে বা ব্যক্তিগত নানা কাজে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজারো মানুষ ঢাকায় আসেন। আবার কাজের প্রয়োজনে বা পরিবার-পরিজনের টানে রাজধানী থেকে বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করতেও হয়। এই যাতায়াতের জন্য অধিকাংশ মানুষই সড়কপথকে সবচেয়ে সুবিধাজনক মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন, কারণ দেশের প্রায় সব জেলা থেকেই নিয়মিত বাস ঢাকায় চলাচল করে।
আজ তুলে ধরা হলো ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গা রুটের বাসের সময়সূচি ও সার্ভিস তথ্য—
- সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ভোর ৫:৩০ মিনিটে চুয়াডাঙ্গাগামী পূর্বাশা পরিবহণের প্রথম বাস ছেড়ে যায়। এরপর নির্দিষ্ট বিরতিতে রাত ১০:৩০ মিনিট পর্যন্ত পূর্বাশা পরিবহণের টিকিট পাওয়া যায়।
একই সময়সূচি অনুযায়ী সায়েদাবাদ থেকেই জে আর পরিবহণ ও শ্যামলী পরিবহণ চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে বাস ছাড়ে। - গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ভোর ৫:১০ মিনিটে রয়েল এক্সপ্রেসের বাস চুয়াডাঙ্গার পথে যাত্রা শুরু করে। সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গাবতলী থেকে রয়েল এক্সপ্রেস, পূর্বাশা, জে আর, চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স ও শ্যামলী পরিবহণ—এগুলোর নিয়মিত বাস ছেড়ে যায়।
এ ছাড়া, কল্যাণপুর ও মিরপুর বাস কাউন্টার থেকেও এসব চুয়াডাঙ্গাগামী বাসের টিকিট সংগ্রহ করা যায়।
ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গা বাসের টিকিট, সময়সূচী
ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গা একটি দীর্ঘ দূরত্বের বাসযাত্রা, যার মোট পথ প্রায় ২৮৫ কিলোমিটার। এ রুটে সাধারণত কয়েকটি ভিন্ন পথে বাস সার্ভিস পাওয়া যায়, এবং প্রতিটি রুটের সময়সূচি ও ভাড়া একেক রকম হয়ে থাকে।
ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গা যেতে সাধারণত ৭ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মতো সময় লাগে। দূরত্বও রুটভেদে ২১০ থেকে ২১৫ কিলোমিটারের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে।
আপনি যদি প্রতিটি রুট, বাস সার্ভিসের নাম, সময়সূচি এবং ভাড়ার তালিকা জানতে চান, তবে এখানে সেইসব তথ্য এক জায়গায় সহজেই পেয়ে যাবেন।
সুতরাং, ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গা রুটের সকল বাসের নাম, সময়সূচি এবং সি ও নন-এসি বাসের তালিকা নিচে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলো।
ঢাকা টু নড়াইল বাসের টিকিট, সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা ২০২৬
ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গা দুরুত্ব কত
ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যেতে বিভিন্ন রুটে ভ্রমণ করলে সময় ও দূরত্ব ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত—
ঢাকা – কুষ্টিয়া Hwy (R710) হয়ে
সময় লাগতে পারে প্রায় ৭ ঘণ্টা ২৯ মিনিট, দূরত্ব প্রায় 215.7 কিলোমিটার।
ঝিনাইদহ – চুয়াডাঙ্গা Rd (R745) হয়ে
এই রুটে সময় লাগতে পারে প্রায় ৭ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট, দূরত্ব 210.9 কিলোমিটার।
জয়দেবপুর–টাঙ্গাইল–জামালপুর Hwy (N4) হয়ে
এই পথটিতে সময় লাগে প্রায় ৭ ঘণ্টা ৫১ মিনিট, দূরত্ব 285.4 কিলোমিটার।
আপনার সুবিধা ও যাতায়াতের ধরন অনুযায়ী যেকোনো রুট বেছে নিতে পারবেন।
ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গা নন এসি বাসের ভাড়া তালিকা
আপনি যদি ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার পরিকল্পনা করেন এবং বিভিন্ন বাস সার্ভিসের ভাড়ার তালিকা জানতে চান, তাহলে নিচের সারণিটি দেখে আপনার বাজেট অনুযায়ী উপযুক্ত বাসটি বেছে নিতে পারেন।
ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গা বাস ভাড়া তালিকা
| বাসের নাম | ভাড়া | কাউন্টার নাম্বার |
|---|---|---|
| শ্যামলী পরিবহন | ৭০০ টাকা | কাউন্টার নাম্বার |
| রয়েল এক্সপ্রেস | ৭০০ টাকা / ৪৫০ টাকা | কাউন্টার নাম্বার |
| পূর্বাশা পরিবহন | ৭০০ টাকা | কাউন্টার নাম্বার |
| জে আর পরিবহন | ৭০০ টাকা | কাউন্টার নাম্বার |
| মেহেরপুর ডিলাক্স | ৭০০ টাকা | কাউন্টার নাম্বার |
| সুমন হিনোলাক্সার | ৭০০ টাকা | কাউন্টার নাম্বার |
| দর্শনা ডিলাক্স | ৭০০ টাকা | কাউন্টার নাম্বার |
ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গায় এসি বাসে ভাড়ার তালিকা
ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গা রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন এসি বাস সার্ভিসের ভাড়া সাধারণত বাসের ধরন ও সুবিধার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। নিচে জনপ্রিয় কিছু বাস সার্ভিসের ভাড়ার তালিকা ও কাউন্টার তথ্য সহজভাবে তুলে ধরা হলো:
১. রয়েল এক্সপ্রেস
- এসি ভাড়া: ১২০০ টাকা
- নন-এসি ভাড়া: ৭০০ টাকা
- যোগাযোগ: কাউন্টার নাম্বার
২. জে আর পরিবহন (JR Paribahan)
- আর এম ২ (AC): ৮০০ টাকা
- নন-এসি ভাড়া: ৭০০ টাকা
- যোগাযোগ: কাউন্টার নাম্বার
৩. পূর্বাশা পরিবহন
- এসি ভাড়া: ১২০০ টাকা
- সুপার ভাড়া: ৯০০ টাকা
- নন-এসি ভাড়া: ৮০০ টাকা
- যোগাযোগ: কাউন্টার নাম্বার
ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গায় বাসের অনলাইন টিকিট
আপনি কি ঢাকা থেকে যশোর রোড রুটের বাসের অনলাইন টিকিট কাটতে চান এবং পুরো পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান? ঢাকা–যশোর রুটে যেকোনো বাসের টিকিট অনলাইনে কিনতে চাইলে আপনাকে প্রথমে Google Play Store থেকে Shohoz.com (সহজ ডট কম) অ্যাপটি ইনস্টল করতে হবে।
অ্যাপ ইনস্টল করার পর Shohoz প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করুন এবং “Bus” অপশনে ক্লিক করুন। এরপর একটি সারণী বা ফর্ম দেখতে পাবেন, যেখানে—
- কোথা থেকে যাত্রা শুরু করবেন
- কোথায় যাবেন
- এবং যাত্রার তারিখ
এই তথ্যগুলো লিখে Search বাটনে ক্লিক করুন।
সার্চ করার পর আপনার সামনে বিভিন্ন বাসের তালিকা আসবে। এখান থেকে পছন্দমতো বাস নির্বাচন করুন। বাসে ক্লিক করলে আপনি—
- সময়সূচি
- টিকিটের দাম
- আসন সংখ্যা
এসব তথ্য দেখতে পারবেন। পছন্দের সিট নির্বাচন করে পরবর্তী ধাপে যান।
এরপর নির্ধারিত পেমেন্ট অপশন ব্যবহার করে টাকা পরিশোধ করুন এবং টিকিট নিশ্চিত হয়ে গেলে প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করুন।
উপরে বর্ণিত ধাপগুলো থেকে সহজেই বোঝা যায় যে ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গা বা যশোর রোড রুটে যাত্রীরা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেন, তাই আরামদায়ক ও নির্ভরযোগ্য বাস সার্ভিস বেছে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সব তথ্য একত্রে উপস্থাপন করা হলো।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!