চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬

চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬

আপনি কি চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী জানতে চান? যদি হ্যাঁ, তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজকের পোস্টে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব চিত্রা এক্সপ্রেসের সময়সূচী, কোন কোন স্টেশনে ট্রেন বিরতি নেয় এবং ভাড়ার তথ্য।

যারা নিয়মিত ঢাকা থেকে খুলনা ট্রেনে যাতায়াত করেন, তারা চিত্রা এক্সপ্রেসের নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন। খুলনা রুটে এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ট্রেন। ঢাকা-খুলনা রুটে নিয়মিত চলাচলকারী এই ট্রেনটি ব্যবহার করে আপনি নিরাপদ ও আরামে আপনার যাত্রা সম্পন্ন করতে পারেন।

সুতরাং, আজকের পোস্টে আমরা আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেব বর্তমান সময়ের অন্যতম দ্রুতগতির ট্রেন, চিত্রা এক্সপ্রেসের সাথে। ট্রেনের সব তথ্য জানতে চাইলে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পোস্টটি পড়া জরুরি। চলুন, শুরু করা যাক!

চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন

বর্তমানে ঢাকা থেকে খুলনা পর্যন্ত রেলপথে বেশ কিছু ট্রেন চলাচল করছে। এর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় এবং দ্রুতগতির ট্রেন হলো চিত্রা এক্সপ্রেস। এই ট্রেনটি সম্পূর্ণ এসি (সীটাতাপ নিয়ন্ত্রিত) সুবিধাসহ পরিচালিত হয়। চিত্রা এক্সপ্রেসকে দুই নামেই চিনে – ৭৬৩ ও ৭৬৪।

চিত্রা এক্সপ্রেসে মোট ১২টি বগি রয়েছে। বিশেষ ঈদ এবং অন্যান্য উৎসবের সময়ে বগির সংখ্যা বাড়ানো হয়, যাতে যাত্রীরা আরামদায়কভাবে ভ্রমণ করতে পারেন।

ট্রেনে মোট ৭৮০টি আসন রয়েছে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, চিত্রা এক্সপ্রেস সাপ্তাহিক কোনো বন্ধের দিন নেই। অর্থাৎ, সপ্তাহের যেকোনো দিন আপনি ঢাকা থেকে খুলনা রেলপথে যাত্রা করতে পারবেন।

ঢাকা টু ময়মনসিংহ ট্রেনের ভাড়া, সময়সূচী এবং ট্রেনের তালিকা

চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

আমরা ইতোমধ্যে চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন সম্পর্কে কিছু ধারণা পেয়েছি। এবার এই ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। ট্রেনের সঠিক সময় জানা থাকলে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন কখন স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়বে এবং কখন গন্তব্যে পৌঁছাবে।

চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী:

  • ঢাকা থেকে খুলনা: চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছাড়ে এবং রাত ৩:৪০ মিনিটে খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে।
  • খুলনা থেকে ঢাকা: খুলনা থেকে ঢাকা ফেরার সময় ট্রেনটি সকাল ৯টায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছাড়ে এবং বিকাল ৫:৫৫ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়।
স্টেশন নামছাড়ার সময়পৌঁছার সময়বন্ধের দিন
ঢাকা কমলাপুরসন্ধ্যা ৭:০০রাত ৩:৪০নেই
খুলনা স্টেশনসকাল ৯:০০বিকাল ৫:৫৫নেই

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ট্রেনের সাপ্তাহিক কোনো বন্ধের দিন নেই। অর্থাৎ, সপ্তাহের সাত দিনই আপনি এই সময়সূচীতে ঢাকা থেকে খুলনা বা খুলনা থেকে ঢাকা যাত্রা করতে পারবেন।

চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টেশন বিরতি

ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়ার জন্য চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন ব্যবহার করলে ট্রেনটি বিভিন্ন স্টেশনে থামে। যদি আমরা এই স্টেশনগুলোর নাম আগে থেকে জানি, তাহলে ট্রেন থামার সময় পরিচিত বা আত্মীয়দের বাসায় যাওয়া সম্ভব হয়। এছাড়াও, যাত্রাপথে আরও কিছু সুবিধা পাওয়া যায়।

চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতি স্টেশনগুলো হলো:

  • নওয়াপাড়া
  • যশোর
  • মোবারকগঞ্জ
  • কোটচাঁদপুর
  • দর্শনা
  • চুয়াডাঙ্গা
  • আলমডাঙ্গা
  • পোড়াদহ
  • মিরপুর
  • ভেড়ামারা
  • ঈশ্বরদী
  • চাটমোহর
  • বড়াল ব্রিজ
  • উল্লাপাড়া
  • শহীদ এম মনসুর আলী
  • বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব
  • বিমানবন্দর

উপরোক্ত স্টেশনগুলো ঢাকা থেকে খুলনা বা খুলনা থেকে ঢাকা যাত্রার সময় ট্রেনের বিরতি স্টেশন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই, যদি আপনি এই স্টেশনগুলোর কোনটির বাসিন্দা হন বা সেখানে নামার পরিকল্পনা থাকে, সহজেই নামতে পারবেন।

চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া তালিকা

এখন পর্যন্ত আমরা চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও স্টেশন বিরতি সম্পর্কে জানলাম। এবার চলুন এই ট্রেনের ভাড়া তালিকা সম্পর্কে জানি। ট্রেনের ভাড়া মূলত আপনার নির্বাচিত সিট বা আসনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এখানে আপনি সাধারণ সিট থেকে শুরু করে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিট পর্যন্ত যেকোনো সিট বুকিং করতে পারবেন। নিচে বিভিন্ন সিটের নাম ও তাদের ভাড়া দেওয়া হলোঃ

সিটের ধরনভাড়া
শোভন চেয়ার৫০৫ টাকা
প্রথম সিট৬৭০ টাকা
প্রথম বার্থ১০০৫ টাকা
স্নিগ্ধা৮৪০ টাকা
এসি সিট১০০৫ টাকা
এসি বার্থ১৫০৫ টাকা

উপরোক্ত তালিকা থেকে আপনার পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী সিট বুকিং করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, উল্লেখিত ভাড়া সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে। সর্বশেষ আপডেট ও নিশ্চিত তথ্যের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://eticket.railway.gov.bd/ ভিজিট করুন।

উপসংহার

সম্মানিত পাঠকগণ, আজকের পোস্টে আমরা ঢাকা থেকে খুলনা পর্যন্ত রেল পথে চলাচলকারী অন্যতম দ্রুতগতির ট্রেন চিত্রা এক্সপ্রেস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। ট্রেনটির সময়সূচী, যাত্রাপথের বিরতির স্টেশনসমূহ এবং বিভিন্ন আসনের ভাড়ার তথ্যও এখানে তুলে ধরা হয়েছে। পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়লে আশা করা যায়, ট্রেনটি সম্পর্কে আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর আপনি সহজেই পেয়ে যাবেন।

আশা করি, এই পোস্টটি পড়ে আপনার জন্য তথ্যবহুল ও উপকারী হয়েছে। যদি আপনি পোস্টটি ভালো লাগে, তবে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আজকের মত এখানেই সমাপ্তি করছি। সবাই সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।

Comments (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই

প্রথম মন্তব্য করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!

আপনার মন্তব্য লিখুন