মেট্রোরেলের সময়সূচি, শুক্রবারে চলাচল, মতিঝিল অংশের সময়সূচি, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন এবং ২০২৬ সালের নতুন ভাড়ার তালিকা নিয়ে অনেক যাত্রী নিয়মিত খোঁজ করেন। বিশেষ করে মেট্রোরেল শুক্রবার বন্ধ থাকে কি না, মেট্রোরেল কখন বন্ধ হয়, বা আজ মেট্রোরেলের সময়সূচি কী—এসব প্রশ্ন যাত্রীদের মাঝে সাধারণভাবে দেখা যায়।
২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী মেট্রোরেলের সময়সূচি, ভাড়া, সাপ্তাহিক বন্ধ এবং বিশেষ দিবসের চলাচলের নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। মতিঝিল থেকে উত্তরা পর্যন্ত নতুন সময়সূচি, ভাড়ার তালিকা ও স্টেশনভিত্তিক সেবা সম্পর্কে যাত্রীদের জানা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার যুগে প্রবেশ ঘটে ২৮ ডিসেম্বর ২০২২, যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা MRT লাইন–৬ এর উদ্বোধন করেন। রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট কমাতে ২০১২ সালে নেওয়া হয় মেট্রোরেল প্রকল্প, যার নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০১৭ সালে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।
এক নজরে দেখে নেয়া যাক মেট্রোরেল প্রকল্প
- ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। এটি উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মোট প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি আধুনিক দ্রুতগতির ট্রানজিট ব্যবস্থা।
- মেট্রোরেলের সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার। ভাড়ার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ২০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এই প্রকল্পের সহায়তায় রয়েছে জাপানের প্রতিষ্ঠান জাইকা (Japan International Cooperation Agency - JICA)। পুরো মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ২৫% এবং জাইকা ৭৫% অর্থায়ন করেছে।
- মেট্রোরেলে মোট ১৭টি স্টেশন রয়েছে। এগুলো হলো:
উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, মতিঝিল ও কমলাপুর। - এই রেলপথের যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার এবং প্রতিদিন প্রায় ৫ লক্ষ যাত্রী বহন করতে পারে। প্রতিটি কোচেই রয়েছে উন্নত মানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) সুবিধা।
মেট্রোরেল কখন বন্ধ থাকে?
বর্তমানে মেট্রোরেলের সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার।
(আগে সাপ্তাহিক বন্ধ ছিল মঙ্গলবার।)
মেট্রোরেল চলাচলের সময়সূচি ২০২৬
উত্তরা উত্তর → মতিঝিল
| সময় (থেকে–পর্যন্ত) | সময়ের ধরন | Headway |
|---|---|---|
| সকাল ০৭:১০ – সকাল ০৭:৩০ | Special Off-Peak Hour | ১০ মিনিট |
| সকাল ০৭:৩১ – সকাল ১১:৩৬ | Peak Hour | ৮ মিনিট |
| সকাল ১১:৩৭ – দুপুর ০২:০০ | Off-Peak Hour | ১২ মিনিট |
| দুপুর ০২:০১ – রাত ০৮:০০ | Peak Hour | ৮ মিনিট |
| রাত ০৮:০১ – রাত ০৯:০০ | Off-Peak Hour | ১২ মিনিট |
মতিঝিল → উত্তরা উত্তর
| সময় (থেকে–পর্যন্ত) | সময়ের ধরন | Headway |
|---|---|---|
| সকাল ০৭:৩০ – সকাল ০৮:০০ | Special Off-Peak Hour | ১০ মিনিট |
| সকাল ০৮:০১ – দুপুর ১২:০৮ | Peak Hour | ৮ মিনিট |
| দুপুর ১২:০৯ – দুপুর ০২:৪০ | Off-Peak Hour | ১২ মিনিট |
| দুপুর ০২:৪১ – রাত ০৮:৪০ | Peak Hour | ৮ মিনিট |
| রাত ০৮:৪১ – রাত ০৯:৪০ | Off-Peak Hour | ১২ মিনিট |
মেট্রোরেল ভ্রমণে যা মনে রাখতে হবে
২৭ মার্চ ২০২৪ থেকে মেট্রো রেলের চলাচলের সময় ১ ঘণ্টা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন থেকে মতিঝিল থেকে সর্বশেষ ট্রেন আগের রাত ৮:৪০ মিনিটের পরিবর্তে রাত ৯:৪০ মিনিটে ছাড়বে। এই ট্রেনটি প্রতিটি স্টেশনে থেমে রাত ১০:১৪ মিনিটে উত্তরা উত্তর স্টেশনে পৌঁছাবে।
এই বাড়তি সময়ে ১২ মিনিট Off-Peak Headway অনুযায়ী আরও ১০টি ট্রেন সার্ভিস যুক্ত হয়েছে। ফলে দৈনিক মোট ট্রেন চলাচল এখন (১৮৪ + ১০) = ১৯৪ বার, এবং প্রতিদিন প্রায় ৪,৪৭,৭৫২ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।
টিকিট ও যাত্রা সম্পর্কিত নিয়মাবলি
- সকাল ৭:১০ ও সকাল ৭:২০ মিনিটে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে ছাড়া ট্রেনে শুধুমাত্র MRT/Rapid Pass ব্যবহার করে ভ্রমণ করা যাবে।
- রাত ৯:০০ ঘটিকার পর মতিঝিল স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ট্রেনে শুধুমাত্র MRT/Rapid Pass গ্রহণযোগ্য হবে।
- রাত ৮:৫০ মিনিটের পর সব স্টেশনের টিকিট কাউন্টার ও টিকিট মেশিন বন্ধ থাকবে।
- প্রতিদিন সকাল ৭:১৫ থেকে রাত ৮:৫০ পর্যন্ত Single Journey Ticket ক্রয় করা যাবে। একই সময়ে MRT Pass ক্রয় ও Top-up করা যাবে।
MRT Pass সংক্রান্ত নির্দেশনা
- www.dmtcl.gov.bd
অথবা যে কোনো মেট্রো স্টেশন থেকে MRT Pass এর নিবন্ধন ফরম সংগ্রহ করে পূরণ করতে হবে। - নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম জমা দিয়ে উল্লিখিত সময়সূচী অনুসারে যে কোনো স্টেশন থেকে MRT Pass সংগ্রহ করা যাবে।
জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা
- নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অফিসে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
- প্ল্যাটফর্ম, কনকোর্স বা ট্রেনের ভেতরে কোনো ধরনের খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ।
সাপ্তাহিক ছুটি
- শুক্রবার
স্টেশনভিত্তিক ভাড়া তালিকা
ঢাকা মেট্রোরেলের সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা। প্রতি দুই স্টেশন পর পর ভাড়া ১০ টাকা করে বৃদ্ধি পায়। উদাহরণ হিসেবে, উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ভাড়া ৬০ টাকা।
উত্তরা নর্থ থেকে ভাড়া
- উত্তরা সেন্টার — ২০ টাকা
- উত্তরা সাউথ — ২০ টাকা
- পল্লবী — ৩০ টাকা
- মিরপুর-১১ — ৩০ টাকা
- মিরপুর-১০ — ৪০ টাকা
- কাজীপাড়া — ৪০ টাকা
- শেওড়াপাড়া — ৫০ টাকা
- আগারগাঁও — ৬০ টাকা
উত্তরা সেন্টার থেকে ভাড়া
- উত্তরা নর্থ — ২০ টাকা
- উত্তরা সাউথ — ২০ টাকা
- পল্লবী — ২০ টাকা
- মিরপুর-১১ — ৩০ টাকা
- মিরপুর-১০ — ৩০ টাকা
- কাজীপাড়া — ৪০ টাকা
- শেওড়াপাড়া — ৪০ টাকা
- আগারগাঁও — ৫০ টাকা
উত্তরা সাউথ থেকে ভাড়া
- উত্তরা সেন্টার — ২০ টাকা
- উত্তরা নর্থ — ২০ টাকা
- পল্লবী — ২০ টাকা
- মিরপুর-১১ — ২০ টাকা
- মিরপুর-১০ — ৩০ টাকা
- কাজীপাড়া — ৩০ টাকা
- শেওড়াপাড়া — ৪০ টাকা
- আগারগাঁও — ৪০ টাকা
পল্লবী থেকে ভাড়া
- উত্তরা সাউথ — ২০ টাকা
- উত্তরা সেন্টার — ২০ টাকা
- উত্তরা নর্থ — ৩০ টাকা
- মিরপুর-১১ — ২০ টাকা
- মিরপুর-১০ — ২০ টাকা
- কাজীপাড়া — ২০ টাকা
- শেওড়াপাড়া — ৩০ টাকা
- আগারগাঁও — ৩০ টাকা
মিরপুর-১১ থেকে ভাড়া
- পল্লবী — ২০ টাকা
- উত্তরা সাউথ — ২০ টাকা
- উত্তরা সেন্টার — ৩০ টাকা
- উত্তরা নর্থ — ৩০ টাকা
- মিরপুর-১০ — ২০ টাকা
- কাজীপাড়া — ২০ টাকা
- শেওড়াপাড়া — ৩০ টাকা
- আগারগাঁও — ৩০ টাকা
মিরপুর-১০ থেকে ভাড়া
- মিরপুর-১১ — ২০ টাকা
- পল্লবী — ২০ টাকা
- উত্তরা সাউথ — ৩০ টাকা
- উত্তরা সেন্টার — ৩০ টাকা
- উত্তরা নর্থ — ৪০ টাকা
- কাজীপাড়া — ২০ টাকা
- শেওড়াপাড়া — ২০ টাকা
- আগারগাঁও — ২০ টাকা
কাজীপাড়া থেকে ভাড়া
- মিরপুর-১০ — ২০ টাকা
- মিরপুর-১১ — ২০ টাকা
- পল্লবী — ২০ টাকা
- উত্তরা সাউথ — ৩০ টাকা
- উত্তরা সেন্টার — ৪০ টাকা
- উত্তরা নর্থ — ৪০ টাকা
- শেওড়াপাড়া — ২০ টাকা
- আগারগাঁও — ২০ টাকা
শেওড়াপাড়া থেকে ভাড়া
- কাজীপাড়া — ২০ টাকা
- মিরপুর-১০ — ২০ টাকা
- মিরপুর-১১ — ২০ টাকা
- পল্লবী — ৩০ টাকা
- উত্তরা সাউথ — ৪০ টাকা
- উত্তরা সেন্টার — ৪০ টাকা
- উত্তরা নর্থ — ৫০ টাকা
- আগারগাঁও — ২০ টাকা
আগারগাঁও থেকে ভাড়া
- শেওড়াপাড়া — ২০ টাকা
- কাজীপাড়া — ২০ টাকা
- মিরপুর-১০ — ২০ টাকা
- মিরপুর-১১ — ৩০ টাকা
- পল্লবী — ৩০ টাকা
- উত্তরা সাউথ — ৪০ টাকা
- উত্তরা সেন্টার — ৫০ টাকা
- উত্তরা নর্থ — ৬০ টাকা
মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন?
ঢাকা মেট্রোরেলের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত প্রযুক্তির Communication Based Train Control System (CBTC) ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে Automatic Train Operation (ATO), Automatic Train Protection (ATP), Automatic Train Supervision (ATS) এবং Moving Block System (MBS)— যা ট্রেন চলাচলকে আরও স্মার্ট ও নিরাপদ করে।
যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশনে Synchronized Platform Screen Door (PSD) এবং ট্রেনের দরজা সমন্বিতভাবে কাজ করে। পাশাপাশি প্রতিটি স্টেশন ও ট্রেনে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বের হওয়ার জন্য দেওয়া হয়েছে ইমার্জেন্সি এক্সিট।
আগুন লাগার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেট্রোরেলে রাখা হয়েছে উন্নত অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা— স্বয়ংক্রিয় স্প্রিঙ্কলার এবং ওয়াটার হাইড্র্যান্ট।
যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে একটি বিশেষায়িত MRT পুলিশ ফোর্স গঠনের কাজ চলছে। তবে নতুন ফোর্স আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (DMP)।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!