মাদারীপুর
ঐতিহাসিক ফরায়েজী আন্দোলনের সাক্ষী আউলিয়াপুর নীলকুঠি (Auliapur Nilkuthi) মাদারীপুরের মানুষের কাছে ডানলপ সাহেবের নীলকুঠি নামেও পরিচিত। এই নীলকুঠি যেন আজও ব্রিটিশ নীলকরদের সময়ের শোষণ ও গরীব চাষীদের দুর্দশার স্মৃতি বহন করছে। আউলিয়াপুর নীলকুঠি অবস্থিত থারচর ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামে, যা মাদারীপুর জেলা শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে। পীর-আউলিয়ার পদস্পর্শে ধন্য আউলিয়াপুরে খ্যাতিমান আউলিয়া হযরত শাহ সুফী খাজা ইউসুফ শাহ আহসানের দরগা শরীফের পাশেই এই নীলকুঠি অবস্থিত।
নীলকুঠিটি ১২ কক্ষবিশিষ্ট, মাঝখানে রয়েছে চুল্লি এবং প্রায় ৪০ ফুট উঁচু একটি চিমনি। তবে বর্তমানে নীলকুঠিরের অনেক অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত এবং জমি বিভিন্নভাবে ব্যবহার হচ্ছে।
ইতিহাস
প্রায় দুইশত বছর আগে, ডানলপ নামের একজন ব্রিটিশ নীলকর ১২ একর জমির ওপর এই নীলকুঠি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন চাষীদের বাধ্য করা হত নীলের চাষ করতে, অন্য ফসলের পরিবর্তে। নীল কুঠিয়াল ও তাদের সহকারী জমিদার-মহাজনদের অত্যাচার চরম পর্যায়ে পৌঁছে। তখন শিবচর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের হাজী শরীয়তউল্লাহ ও তার পুত্র পীর মহসীনউদ্দিন দুদুমিয়া চাষীদের অধিকার রক্ষার জন্য নীল কুঠিয়ালদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলেন।
হাজী শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর, ১৭৩৮ সালে দুদুমিয়ার নেতৃত্বে ব্রিটিশদের সাথে যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধে নীল কুঠিয়াল ডানলপ পরাজিত হয়ে নীলকুঠি ত্যাগ করতে বাধ্য হন। সেই যুদ্ধের স্থান আজও স্থানীয়দের মধ্যে ‘রণখোলা’ নামে পরিচিত।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার গাবতলি, সায়দাবাদ এবং কেরানীগঞ্জের নয়া বাজারের ব্রিজ থেকে পদ্মা বহুমুখী সেতু হয়ে মাদারীপুরগামী বাস চলাচল করে। নন-এসি বাসের ভাড়া প্রায় ৩৫০-৪০০ টাকা। এছাড়া গাবতলি থেকে বরিশালগামী যেকোনো বাসে চড়ে মোস্তফাপুর নেমে বাস বা অটোরিক্সায় মাদারীপুর সদরে আসা সম্ভব। মাদারীপুর থেকে আউলিয়াপুর নীলকুঠিতে পৌঁছানোর জন্য অটোরিক্সা ও সিএনজি সুবিধা রয়েছে।
কোথায় থাকবেন
মাদারীপুরে কয়েকটি হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে হোটেল সার্বিক, হোটেল মাতৃভূমি, হোটেল সুমন, হোটেল জাহিদ এবং হোটেল সৈকত উল্লেখযোগ্য।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!