ঢাকা
২০১৪ সালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়, যা দেশের প্রথম বিমানবাহিনী-সম্পর্কিত জাদুঘর। এই জাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস ও অর্জন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
জাদুঘরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে বিশাল প্রাঙ্গণ, যেখানে বিভিন্ন যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও রাডার সজ্জিত রয়েছে। এখানে মোট ২১টি বিমান ও ৩টি রাডার প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি বিমান ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় বিমানবাহিনী ব্যবহার করেছিল, যা পরে বাংলাদেশকে উপহার দেওয়া হয়।
দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরে রয়েছে নানা সুযোগ-সুবিধা, যেমন—
- ফুড কোর্ট
- স্যুভেনির শপ ‘নীলাদ্রি’
- বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্য
- থিম পার্ক
- মনোরম ফোয়ারা
এটি ইতিহাসপ্রেমী ও বিনোদনপিপাসু সবাইকে আকর্ষণ করে।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘরের উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ:
- বলাকা: বাংলাদেশের প্রথম যাত্রীবাহী বিমান বলাকা রাশিয়া দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। এটি ১৯৫৮ সালে বাংলাদেশে আনা হয়।
- পিটি-৬: চীন দ্বারা নির্মিত এই বিমানটি ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের বিমান বাহিনীতে যুক্ত হয়।
- এয়ার টুওরার: নিউজিল্যান্ডে তৈরি এই বিমানটি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হতো। এটি ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে আনা হয়।
- গ্লাইডার: জার্মানি থেকে প্রাপ্ত এই গ্লাইডার ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে যুক্ত হয়।
- ফুগাসি এম-১৭০: ফ্রান্সে নির্মিত এই বিমানটি ১৯৬০ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ১৯৯৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থান পায়।
- হান্টার বিমান: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশের আকাশসীমা রক্ষায় এই বিমান ব্যবহার করেছিল।
- এয়ারটেক কানাডিয়ান ডিএইচ ৩/১০০০: কানাডায় তৈরি এই বোমারু বিমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে সফল অভিযান চালায়।
- অন্যান্য বিমান: এছাড়াও বিমান জাদুঘরে সংরক্ষিত হয়েছে এফটি-৫, মিগ-২১, জি নাট, এফ৬ এবং এ৫-১১১ এর মতো বিমানগুলো।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘরে পরিদর্শনের সময়
বিমান বাহিনী জাদুঘর সপ্তাহে ৬ দিন খোলা থাকে, শুধুমাত্র রবিবার বন্ধ থাকে। সাপ্তাহিক খোলার সময়সূচি নিম্নরূপ:
- সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার: দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত
- শুক্রবার ও শনিবার: সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত
দর্শনার্থীরা এই সময়সূচি অনুযায়ী জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন।
টিকেট মূল্য
জাদুঘরে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ টিকেটের মূল্য ৫০ টাকা, অন্যদিকে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য প্রবেশ ফি ২৫ টাকা। এছাড়া, জাদুঘরের বিমান বা হেলিকপ্টারে চড়ার অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য আলাদাভাবে ৩০ টাকার টিকেট কিনতে হবে।
কিভাবে যাবেন
আগারগাঁও যেতে চাইলে ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে সহজেই আসতে পারবেন। গুলিস্তান থেকে বিহঙ্গ, হিমাচল, স্বাধীন, হাজী ট্রান্সপোর্ট, ইটিসি ট্রান্সপোর্টসহ বিভিন্ন বাসে চড়ে এখানে পৌঁছানো যায়। বাসে উঠে "বিমানবাহিনী যাদুঘর"-এর নাম বললেই চালক আপনাকে সঠিক জায়গায় নামিয়ে দেবেন। এছাড়া, রামপুরা থেকে হিমাচল বা আলিফ পরিবহনের বাসেও আগারগাঁও আসা যায়। যদি নিজস্ব গাড়ি বা সিএনজি ব্যবহার করেন, তাহলে ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে সরাসরি আগারগাঁও পৌঁছানো সহজ হবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!