ঢাকা
কার্জন হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত একটি প্রায় ১১৫ বছর পুরনো ঐতিহাসিক ভবন ও স্থাপত্যকীর্তি। বর্তমানে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষাকার্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯০৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কার্জন এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এটি ঢাকা কলেজের ভবন হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
ইউরোপীয় ও মুঘল স্থাপত্যের সমন্বয়ে নির্মিত এই দ্বিতল ভবনটি ঢাকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। লাল ইটের নান্দনিক কারুকাজে সজ্জিত এই ভবনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি বিশাল হলঘর। ভবনের সামনে সুসজ্জিত বাগানের মাঝ দিয়ে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে চলে গেছে একটি মনোরম পথ। ভবনের পিছনে রয়েছে প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন মুসা খাঁ মসজিদ, একটি বড় পুকুর এবং শেরে বাংলা ফজলুল হক হলের মূল ভবন। কার্জন হলের বিপরীত দিকে রয়েছে শিশু একাডেমি ও দোয়েল চত্বর।
কার্জন হল শুধু একটি পুরনো ভবনই নয়, এর ঐতিহাসিক গুরুত্বও অপরিসীম। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর এটি পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের সচিবালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখান থেকেই উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রথম প্রকাশ্য প্রতিবাদ হয়েছিল।
যেকোনো সময় কার্জন হল পরিদর্শন করা যায় এবং এজন্য কোনো প্রবেশ ফি দিতে হয় না।
কার্জন হল কিভাবে যাবেন
আপনি রাজধানী ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক কার্জন হল দেখতে আসতে পারবেন। যদি আপনার ব্যক্তিগত গাড়ি থাকে, তাহলে তো সহজেই যেতে পারবেন। আর গণপরিবহন ব্যবহার করতে চাইলে, প্রথমে বাসে করে শাহবাগ নেমে, সেখান থেকে মাত্র ১৫-২০ টাকার রিকশা ভাড়ায় কার্জন হলে পৌঁছানো যাবে।
কোথায় খাবেন
পুরান ঢাকার খাবারের রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। এখানে আপনি পেতে পারেন আল রাজ্জাকের স্বাদ, হাজীর বিরিয়ানির মজাদার স্বাদ, কাশ্মির কাচ্চির অনন্য রেসিপি, বিউটি বোডিংয়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার কিংবা সুলতানের চায়ের বিশেষ স্বাদ। নিশ্চিতভাবে এখান থেকে আপনার পছন্দের খাবারটি বেছে নিতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!