মাদারীপুর
১২৫৫ বঙ্গাব্দে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার পোলসাইর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সাধুপুরুষ শ্রী শ্রী গনেশ পাগল। তাঁর পিতা শিরোমনি ও মাতা নারায়ণী দেবী দু’জনই শ্রী শ্রী নারায়ণ দেবের ভক্ত ছিলেন। গনেশ পুজার দিন সন্তানের জন্ম হওয়ায় তাঁর নাম রাখা হয় ‘গনেশ’। শ্রী বিন্দু দাস গোসাইয়ের অনুচর হিসেবে পরিচিত এই মহামানব ১৩৩৫ বঙ্গাব্দে পরলোকগমন করেন।
১৩১২ বঙ্গাব্দে গনেশ পাগলের ভক্তদের উদ্যোগে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী দিঘীরপাড়ে প্রায় ৩৬৫ বিঘা জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় গনেশ পাগল সেবাশ্রম (Ganesh Pagol Sebashram)। প্রায় ১৩৭ বছর আগে ১৩ জন সাধু ১৩ কেজি চাল ও ১৩ টাকা নিয়ে ১৩ জ্যৈষ্ঠ তারিখে ভারতের কুম্ভমেলার আদলে প্রথমবারের মতো এখানে কুম্ভমেলার আয়োজন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের ১৩ তারিখ সেবাশ্রমে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এই মেলা উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ কুম্ভমেলা হিসেবে পরিচিত। প্রায় ১৬৭ একর বা ৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই মেলার আয়োজনে পূর্বে একদিন মেলা হলেও এখন তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখা এই কুম্ভমেলায় প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত হন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের বিশ্বাস, মেলায় অংশগ্রহণ ও গনেশ পাগলের মন্দির দর্শন করলে নানান বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি মেলে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে সড়কপথে মাদারীপুরের দূরত্ব প্রায় ১২৮ কিলোমিটার। গাবতলী ও কেরানীগঞ্জের নয়া বাজার ব্রীজের প্রান্ত থেকে সরাসরি মাদারীপুরগামী বাস পাওয়া যায়। গাবতলী থেকে সার্বিক পরিবহন, চন্দ্রা পরিবহন, সোনালী পরিবহন ও সোহেল পরিবহনের বাস নিয়মিত চলাচল করে। সায়েদাবাদ থেকেও মাদারীপুরের বাস ছেড়ে যায়। ডিরেক্ট বাস নিলে সবচেয়ে সুবিধা হয়; ভাড়া জনপ্রতি ৪৫০–৫০০ টাকা (পরিবর্তনশীল)। ঢাকা থেকে মাদারীপুর পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৩ ঘণ্টা।
এছাড়া গাবতলী থেকে বরিশালগামী বাসে মোস্তফাপুর নেমে সেখান থেকে অটোরিকশা বা লোকাল যানবাহনে মাদারীপুর সদর বা টেকেরহাট যাওয়া যায়। মাদারীপুরের আগে টেকেরহাট স্ট্যান্ডে নেমে মাহিন্দ্রতে করেই গনেশ পাগল সেবাশ্রমে যেতে পারবেন।
কোথায় থাকবেন
মাদারীপুরে রাতযাপনের জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে।
- হোটেল সার্বিক: 01718101335
- হোটেল মাতৃভূমি: 01708529781
- হোটেল সৈকত: 01734788404
এছাড়া জেলা পরিষদের ডাক বাংলোতেও থাকার ব্যবস্থা আছে (পূর্বে বুকিং লাগতে পারে)।
কোথায় খাবেন
মাদারীপুরে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে সাধারণ খাবারের ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। সময় হাতে থাকলে শহরের শকুনি লেকের পাশে অবস্থিত খাবারের দোকানগুলোতে চটপটি, ফুচকা ও সুস্বাদু মিষ্টি অবশ্যই চেখে দেখতে পারেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!