ঢাকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের নিকটে অবস্থিত গুরুদুয়ারা নানকশাহী বাংলাদেশের বৃহত্তম শিখ উপাসনালয়। জনশ্রুতি অনুযায়ী, ষোড়শ শতকে শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানক এই স্থানে কিছু সময় অবস্থান করেছিলেন এবং একেশ্বরবাদ, ভ্রাতৃত্ববোধ ও শিখ ধর্মীয় রীতিনীতি সম্পর্কে উপদেশ দিয়েছিলেন। যদিও গুরুদুয়ারাটির নির্মাণকাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে ১৮৩০ সালে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।
১৯১৫ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত শ্রীচন্দ্র জ্যোতি নামে এক শিখ সাধু এখানে পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন। দেশ বিভাগের পর প্রায় ২৫ বছর এই গুরুদুয়ারা পরিত্যক্ত ছিল। পরে ১৯৭২ ও ১৯৮৮ সালে এটির ব্যাপক সংস্কার করা হয় এবং বারান্দাসহ নতুন স্থাপনা যোগ করা হয়। ২০১১ সালে মূল ভবনের পাশে একটি দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়, যেখানে অফিস কক্ষ, শিখ গবেষণা কেন্দ্র এবং অতিথি কক্ষ রয়েছে। একসময় গুরুদুয়ারা নানকশাহীর অধীনে বিশাল সম্পত্তি থাকলেও বর্তমানে এটি সীমিত পরিসরে পরিচালিত হয়, যা বারংবার সংস্কারের ইতিহাস বহন করে।
প্রাচীরবেষ্টিত এই গুরুদুয়ারার সামনে রয়েছে সবুজ লন। মূল ভবনের কেন্দ্রে একটি বিশাল কক্ষ অবস্থিত, যার চারটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। এখানে শিখ ধর্মগ্রন্থ গ্রন্থসাহেব এবং নবম গুরু তেগ বাহাদুর সিংয়ের ব্যবহৃত একজোড়া খড়ম সংরক্ষিত আছে। বর্তমানে ভাই আজাদবিন্দার সিং প্রধান গ্রন্থির দায়িত্বে আছেন। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় এখানে গ্রন্থসাহেব পাঠ ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রতি শুক্রবার বেলা ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত সাপ্তাহিক সমাবেশ ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
কিভাবে যাবেন
আপনি রাজধানী ঢাকার যেকোনো জায়গা থেকে শাহবাগ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এসে কলা ভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক গুরুদুয়ারা নানকশাহী পরিদর্শন করে যেতে পারেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!