জল্লাদখানা বধ্যভূমি

ঢাকা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়েছিল বাঙালি জাতি। মিরপুরের বহু স্থান দেড় মাস ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর পাকিস্তানিদের বর্বরতার সাক্ষী হয়ে উঠেছিল, যেগুলো পরবর্তীতে বধ্যভূমিতে পরিণত হয়। ১৯৯৯ সালের ১৫ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে মিরপুরের বিভিন্ন স্থান খনন করার পর মিরপুর ১০ নম্বরে জল্লাদখানা বধ্যভূমি আবিষ্কৃত হয়। ২০০৮ সালে তৎকালীন সরকারের স্থপতি ও কবি রবিউল হুসাইনের পরিকল্পনা এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রচেষ্টায় এখানে নির্মিত হয় 'জল্লাদখানা বধ্যভূমি স্মৃতিপাঠ'। ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বরে অবস্থিত এই বধ্যভূমি মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানিদের নৃশংসতার মূর্তপ্রমাণ হিসেবে আজও দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম এই বধ্যভূমিতে অসংখ্য নির্যাতিত বাঙালিকে গণকবর দেওয়া হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাম্প হাউজ নামে পরিচিত মিরপুর ১০ নম্বরের এই এলাকাটিকে বধ্যভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা। পাকিস্তানি হানাদাররা স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের প্রশিক্ষিত জল্লাদ দিয়ে পাম্প হাউজের কূপের সামনে শিরচ্ছেদ করে অন্ধকার পানিভর্তি কূপে নিক্ষেপ করত। ধারণা করা হয়, এই বধ্যভূমির বড় বড় সেফটি ট্যাঙ্ক ও আশেপাশের এলাকায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাঙালির লাশ গুম করে ফেলা হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে প্রথম দফায় খনন কাজ চালিয়ে প্রায় তিন ট্রাক হাড়গোড় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে নেওয়া হয়। খননকালে সেখানে ৭০টি মাথার খুলি, ৫,২৯২টি অস্থিখণ্ড, নারীদের শাড়ি, ফ্রক, ওড়না, গয়না ও জুতাসহ শহীদদের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। বধ্যভূমি জাদুঘরে পাকিস্তানিদের বর্বরতার নিদর্শন ও শহীদ বাঙালিদের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত আছে। জাদুঘরের পূর্ব পাশে শিল্পী রফিকুন নবী ও মনিরুজ্জামানের যৌথ উদ্যোগে টেরাকোটা ইট ও লোহার তৈরি 'জীবন অবিনশ্বর' নামক একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। বধ্যভূমির পাশেই রয়েছে সেই অভিশপ্ত কূপ, যেখানে অসংখ্য মানুষের লাশ নিক্ষেপ করা হতো—এটি দর্শনার্থীদের দেখার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

কিভাবে যাবেন

মিরপুর ১০-এ যাওয়ার জন্য ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস বা সি এনজি ব্যবহার করা যাবে। মিরপুর গোল চত্বর থেকে ১১ নম্বর সেকশনের দিকে অগ্রসর হলে বেনারশি পল্লীর প্রথম গেট পাওয়া যাবে। সেখান থেকে সামনে এগোলে জল্লাদখানা বধ্যভূমিতে পৌঁছানো সম্ভব।

জল্লাদখানা বধ্যভূমি এর দূরত্ব
ঢাকা থেকে দূরত্ব:
3.75 কিমি
ঢাকা থেকে
4.24 কিমি
আপনার নিকটবর্তী স্থান থেকে দূরত্ব দেখতে জেলা সিলেক্ট করুন
Rate this Post
4.7
Average Rating
85
Total Votes
Poor Excellent
Comments (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই

প্রথম মন্তব্য করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!

আপনার মন্তব্য লিখুন