মাদারীপুর
শকুনি লেক (Shokuni Lake) মাদারীপুর জেলার একটি পরিচিত ও ঐতিহাসিক স্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এই লেকের পরিবেশ সহজেই মনকে প্রশান্তি দেয়। সরকারি নথিতে এটি ‘শকুনি লেক’ নামে পরিচিত হলেও স্থানীয়রা সাধারণত ‘মাদারীপুর লেক’ নামেই ডাকে। কয়েকশ বছর আগে এক রাজা তার প্রজাদের পানির চাহিদা মেটাতে লেকটি খনন করেছিলেন। আজ এটি মাদারীপুরবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন কেন্দ্র। লেকে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, কৃত্রিম ঝর্ণা, কফি শপ, রেস্টুরেন্ট এবং বিশ্রামের জন্য ছাউনি।
বিকেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ২০ একর আয়তনের এই লেকের জনসমাগমও বৃদ্ধি পায়। শহরের মানুষরা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে অবসর সময় কাটাতে এখানে আসেন। লেকের আশেপাশের দোকানগুলোতে পাওয়া যায় সুস্বাদু মিষ্টি, যা সারাদেশে খ্যাত। এছাড়া, মাদারীপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেমন ডিসি অফিস ও পুলিশ স্টেশনও শকুনি লেকের কাছে অবস্থান করছে।
শকুনি লেকে কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে মাদারীপুরের দূরত্ব প্রায় ১২৮ কিলোমিটার। ঢাকার গাবতলি ও কেরানীগঞ্জ (নয়া বাজারের ব্রিজের ওপার) থেকে মাদারীপুরগামী সরাসরি বাস চলাচল করে। গাবতলী বাস স্ট্যান্ড থেকে সার্বিক পরিবহন, চন্দ্রা পরিবহন এবং সোহেল পরিবহনের বাস মাদারীপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকেও নিয়মিত মাদারীপুরগামী বাস পাওয়া যায়।
ডাইরেক্ট বাসের টিকেট সাধারণত ৩৫০–৪০০ টাকা প্রতি যাত্রী (পরিবর্তনশীল)। বাসে চড়ে প্রায় ৩ ঘন্টায় মাদারীপুর পৌঁছানো সম্ভব। মাদারীপুর নতুন বাস স্ট্যান্ডে নেমে মাত্র ২০ টাকা রিকশা ভাড়ায় সহজেই শকুনি লেকে পৌঁছানো যায়।
কোথায় থাকবেন
মাদারীপুরে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। উল্লেখযোগ্য হোটেলগুলো হলো:
- হোটেল সার্বিক: 01788-812111
- হোটেল জাহিদ: 01911-106832
- হোটেল মেট্রো: 01751544337
- হোটেল লেক ভিউ: 01771000471
এছাড়া, জেলা পরিষদের ডাক বাংলোতেও থাকা সম্ভব।
কোথায় খাবেন
দিনের খাবারের জন্য মাদারীপুরে বিভিন্ন মানের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। শকুনি লেকের আশেপাশের দোকান থেকে চটপটি, ফুচকা এবং সুস্বাদু মিষ্টি খেতে ভুলবেন না।
আপনার মন্তব্য লিখুন