ঢাকা
ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবন বাংলাদেশের স্থাপত্য শিল্পের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ১৯৬১ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ১৯৮২ সালে। বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি লুই আই কান-এর নকশায় তৈরি এই ভবনের কেন্দ্রে রয়েছে প্রধান হল, যেখানে সংসদ সদস্যগণ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই মূল হলকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে সংসদ ভবনের অন্যান্য অংশ।
নয়তলা বিশিষ্ট এই ভবনে মাত্র তিনটি তলায় অনুভূমিক সংযোগ রয়েছে। ভবনটির মাটির উপরের কাঠামোর উচ্চতা ৪৯.৬৮ মিটার। জাতীয় সংসদ ভবনের মূল কমপ্লেক্স ৯টি অংশে বিভক্ত, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় অষ্টভুজাকৃতির অংশটির উচ্চতা ৪৭.২৪ মিটার এবং বাকি আটটি অংশ ৩৩.৫৩ মিটার উঁচু। পুরো কমপ্লেক্সের আয়তন—
- মূল ভবন: ৭৪,৪৫৯.২০ বর্গমিটার
- দক্ষিণ প্লাজা: ২০,৭১৭.৩৮ বর্গমিটার
- উত্তর প্লাজা: ৬,০৩৮.৭০ বর্গমিটার
ভবনের নিচতলায় রয়েছে কার পার্কিং, তত্ত্বাবধায়ক অফিস এবং বিভিন্ন সুবিধা। কৃত্রিম লেক দ্বারা বেষ্টিত এই ভবনটিকে দেখলে মনে হয় যেন পানির উপর ভেসে আছে।
সংসদ ভবনের উত্তর দিকে প্রেসিডেন্সিয়াল স্কয়ার অবস্থিত, যা সবুজ ঘাস ও ইউক্যালিপটাস গাছে শোভিত। এই ভবনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে কোনো কলাম নেই, যেন বিশাল কংক্রিট খোদাই করে এক অনন্য শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়েছে। এই স্বতন্ত্র স্থাপত্য বাংলাদেশের অন্যান্য আধুনিক ভবন থেকে জাতীয় সংসদ ভবনকে করেছে অনন্য।
সংসদ ভবন পরিদর্শন করার নিয়মাবলী
জাতীয় সংসদ ভবনের বাহ্যিক সৌন্দর্য যেকেউ বাইরে থেকে দেখতে পারবেন। তবে ভবনের অভ্যন্তরীণ অংশ পরিদর্শনের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাংলাদেশী নাগরিকরা বিনামূল্যে সংসদ ভবন ঘুরে দেখতে পারবেন, তবে এজন্য সংসদ সচিবালয়ের সচিবের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
অন্যদিকে, বিদেশী নাগরিকদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি প্রদানসহ কিছু অতিরিক্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। তাদের জন্য আবেদন ফরম জমা দিতে হবে এবং পাসপোর্ট ও ভিসার কপি সংযুক্ত করতে হবে। শর্তগুলো মানলে বিদেশীরাও সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!