ঢাকা
১৮৭৪ সালে ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড নর্থব্রুকের ঢাকা সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে মুঘল ও ইউরোপীয় স্থাপত্যের মিশেলে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ফরাশগঞ্জে নর্থব্রুক হল নির্মাণ করা হয়। প্রথমে এটি টাউন হল হিসেবে ব্যবহার হলেও পরবর্তীতে এটিকে গণগ্রন্থাগারে রূপান্তর করা হয় এবং জনসন হল নামে একটি ক্লাবঘর যুক্ত করা হয়। লাল রঙের এই ভবন স্থানীয়দের কাছে "লালকুঠি" নামে পরিচিতি পায়। ১৯২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি এখানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সংবর্ধনা জানায়।
এক বিঘা জমির ওপর নির্মিত নর্থব্রুক হলের চার কোণায় অষ্টভুজাকৃতির কারুকার্যখচিত মিনার রয়েছে। মূল ভবনের উত্তর দিকের দরজাগুলো অশ্বখুরাকার ও অর্ধবৃত্তাকার। মুসলিম স্থাপত্যরীতির এই ভবনের দক্ষিণ ও উত্তর দিকের নকশায় রয়েছে বৈচিত্র্য, যা প্রথম দেখায় দুটি আলাদা ভবনের মতো মনে হয়।
বর্তমানে নর্থব্রুক হল প্রাঙ্গণে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব, ডায়াবেটিক সমিতি এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের একটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় রয়েছে। ভবনের পাশের রাস্তাটি আজও নর্থব্রুক হল রোড নামে পরিচিত। সংরক্ষিত এই পুরাকীর্তির অতীত জৌলুশ না থাকলেও এর চূড়া ও দেয়ালের নান্দনিক কারুকাজ দর্শনার্থীদের আজও মুগ্ধ করে।
কীভাবে যাবেন
আপনি ঢাকা শহরের যেকোনো জায়গা থেকে গুলিস্তান বা সদরঘাটে এসে সরাসরি রিকশা ভাড়া করে নর্থব্রুক হল (লালকুঠি) পৌঁছাতে পারবেন।
কোথায় থাকবেন
রাজধানী ঢাকায় প্রায় সব এলাকাতেই বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল পাওয়া যায়। এখানে পাঁচ তারকা হোটেল থেকে শুরু করে সাধারন মানের বাজেট হোটেলও রয়েছে। বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেলের মধ্যে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ, হোটেল লা মেরিডিয়েন, র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ফকিরাপুল, পল্টন, গুলিস্তান এবং পুরান ঢাকায় কম খরচে থাকার জন্য অসংখ্য সাশ্রয়ী আবাসিক হোটেল পাওয়া যায়।
কোথায় খাবেন
পুরান ঢাকার রসনাবিলাসীদের জন্য আছে এক আকর্ষণীয় মেনু—কাজি আলাউদ্দিন রোডের হাজির বিরিয়ানির স্বাদ, হোটেল রয়েলের ক্রিমি পেস্তা শরবত, বেচারাম দেউড়িতে নান্নার সুগন্ধি মোরগ পোলাও, লালবাগ শাহী মসজিদের কাছেই মোহন মিয়ার টাটকা ফ্রুট জুস আর হানিফের তেহরির অতুলনীয় স্বাদ। প্রতিটি পদই যেন একেকটি স্বাদের মহাযাত্রা!
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!