ভোলা জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

ভোলা জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ২০২৬ সালের জন্য সারা দেশের মতো ভোলা জেলার সেহরি ও ইফতারের আলাদা সময়সূচি প্রকাশ করেছে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেই এই সময়সূচি কার্যকর হবে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার ঢাকার সময়ের সঙ্গে যোগ-বিয়োগ করার কোনো প্রয়োজন নেই। ভোলা জেলার রোজাদাররা সরাসরি নিজ জেলার নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করেই নির্ভুলভাবে সেহরি ও ইফতার করতে পারবেন।

ভোলা জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

রমজান মাস আমাদের জন্য আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক বিশেষ সুযোগ। সঠিক সময়ে সেহরি ও ইফতার আদায় করা রোজার শুদ্ধতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত জামালপুর জেলার সময়সূচি অনুসরণ করলে নির্ভুলভাবে ও নিশ্চিন্তে রোজা পালন করা যায়। কারণ রোজার প্রকৃত সাফল্য নিহিত রয়েছে খাঁটি নিয়ত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাঝে।

 ময়মনসিংহ জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

সেহরি, ইফতার ও রোজার নিয়ত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে ইবাদতে আরও মনোযোগ ও আন্তরিকতা আসে। তাই নির্ভরযোগ্য সময়সূচি মেনে সুন্নত অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে আমরা রমজানের অফুরন্ত রহমত ও বরকত অর্জন করতে পারি। 

ভোলা জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো

রহমতের ১০ দিন

রমজানতারিখবারসাহরির শেষ সময়ফজর শুরুইফতার
০১১৯ ফেব্রুয়ারীবৃহস্পতি৫:০৯ am৫:১২ am৫:৫৭ pm
০২২০ ফেব্রুয়ারীশুক্র৫:০৮ am৫:১১ am৫:৫৭ pm
০৩২১ ফেব্রুয়ারীশনি৫:০৮ am৫:১১ am৫:৫৮ pm
০৪২২ ফেব্রুয়ারীরবি৫:০৭ am৫:১০ am৫:৫৮ pm
০৫২৩ ফেব্রুয়ারীসোম৫:০৬ am৫:০৯ am৫:৫৯ pm
০৬২৪ ফেব্রুয়ারীমঙ্গল৫:০৫ am৫:০৮ am৫:৫৯ pm
০৭২৫ ফেব্রুয়ারীবুধ৫:০৫ am৫:০৮ am৬:০০ pm
০৮২৬ ফেব্রুয়ারীবৃহস্পতি৫:০৪ am৫:০৭ am৬:০০ pm
০৯২৭ ফেব্রুয়ারীশুক্র৫:০৩ am৫:০৬ am৬:০১ pm
১০২৮ ফেব্রুয়ারীশনি৫:০২ am৫:০৫ am৬:০১ pm

মাগফিরাতের ১০ দিন

রমজানতারিখবারসাহরির শেষ সময়ফজর শুরুইফতার
১১০১ মার্চরবি৫:০২ am৫:০৫ am৬:০২ pm
১২০২ মার্চসোম৫:০১ am৫:০৪ am৬:০২ pm
১৩০৩ মার্চমঙ্গল৫:০০ am৫:০৩ am৬:০৩ pm
১৪০৪ মার্চবুধ৪:৫৯ am৫:০২ am৬:০৩ pm
১৫০৫ মার্চবৃহস্পতি৪:৫৮ am৫:০১ am৬:০৪ pm
১৬০৬ মার্চশুক্র৪:৫৭ am৫:০০ am৬:০৪ pm
১৭০৭ মার্চশনি৪:৫৬ am৪:৫৯ am৬:০৫ pm
১৮০৮ মার্চরবি৪:৫৫ am৪:৫৮ am৬:০৫ pm
১৯০৯ মার্চসোম৪:৫৪ am৪:৫৭ am৬:০৬ pm
২০১০ মার্চমঙ্গল৪:৫৪ am৪:৫৬ am৬:০৬ pm

নাজাতের ১০ দিন

রমজানতারিখবারসাহরির শেষ সময়ফজর শুরুইফতার
২১১১ মার্চবুধ৪:৫৩ am৪:৫৫ am৬:০৬ pm
২২১২ মার্চবৃহস্পতি৪:৫২ am৪:৫৪ am৬:০৭ pm
২৩১৩ মার্চশুক্র৪:৫১ am৪:৫৪ am৬:০৭ pm
২৪১৪ মার্চশনি৪:৫০ am৪:৫৩ am৬:০৮ pm
২৫১৫ মার্চরবি৪:৪৯ am৪:৫২ am৬:০৮ pm
২৬১৬ মার্চসোম৪:৪৮ am৪:৫১ am৬:০৯ pm
২৭১৭ মার্চমঙ্গল৪:৪৭ am৪:৫০ am৬:০৯ pm
২৮১৮ মার্চবুধ৪:৪৬ am৪:৪৯ am৬:০৯ pm
২৯১৯ মার্চবৃহস্পতি৪:৪৫ am৪:৪৭ am৬:১০ pm
৩০২০ মার্চশুক্র৪:৪৪ am৪:৪৬ am৬:১০ pm

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নামাজের সময়সূচি নির্ধারণ কমিটির ২৮.০৬.১৯৯৩ খ্রি. তারিখের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত ১৪৪৩ হিজরি (২০২২ খ্রি.) সালের সাহরি ও ইফতারের সময়সূচিতে ঢাকা সময়ের সাথে ভোলা জেলার সাহরি ও ইফতারের সময়ের পার্থক্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপরের টেবিলে যুক্ত করা হয়েছে।

ভোলা জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ ইমেজ ডাউনলোড

রোজার আরবি নিয়ত

نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم

 

রোজার নিয়তের বাংলা উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

রোজার নিয়তের অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়ত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোজা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

ইফতারের দোয়া আরবি উচ্চারণ

بسم الله اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ

ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু।

ইফতারের দোয়ার বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিজিজের মাধ্যমে  ইফতার করছি। (মুআজ ইবনে জাহরা থেকে বর্ণিত, আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৮)

সাহরি, ইফতারের গুরুত্ব ও ফজিলত

রোজা মানে শুধু সাহরি খাওয়া আর ইফতারের অপেক্ষা করা নয়—এর আসল ভিত্তি হলো নিয়ত। অনেকেই মনে করেন নিয়ত বলতে কোনো নির্দিষ্ট আরবি বাক্য মুখে বলা বাধ্যতামূলক, কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন। ঘুম থেকে উঠে রোজা রাখার প্রস্তুতি নেওয়া এবং সাহরি খাওয়ার মনোভাবই মূলত নিয়তের অংশ।

নিয়ত আসলে মনের ব্যাপার—হৃদয়ের ভেতরের এক ধরনের দৃঢ় সিদ্ধান্ত। তাই তা জোরে উচ্চারণ করতেই হবে, এমন কোনো শর্ত নেই। কেউ যদি মনে মনে ঠিক করে নেয় যে সে আজ রোজা রাখবে, তাহলেই তার নিয়ত পূর্ণ হয়ে যায় এবং রোজা গ্রহণযোগ্য হয়।

বাংলাদেশে একটি প্রচলিত আরবি নিয়ত রয়েছে, যা অনেকেই অভ্যাসবশত পড়ে থাকেন। তবে এই নিয়তটি কুরআন-হাদিস বা নির্ভরযোগ্য ফিকাহ গ্রন্থে সরাসরি উল্লেখিত নয়। চাইলে পড়া যেতে পারে, এতে বাধা নেই। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নিয়ত যেন অন্তর থেকে আসে। কারণ রোজার প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে আছে হৃদয়ের সেই নিঃশব্দ সংকল্পেই।

উপসংহার

রমজান মাস আমাদের জীবনে আসে এক গভীর পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে—নিজেকে শুদ্ধ করার, সংযম শেখার এবং আল্লাহর আরও কাছে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে। এই পবিত্র মাসে সঠিক সময়ে সেহরি ও ইফতার করা শুধু একটি নিয়ম নয়, বরং রোজার শুদ্ধতা ও মর্যাদা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভোলা জেলার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঘোষিত নির্ভরযোগ্য সময়সূচি অনুসরণ করলে রোজা পালন হয় সহজ, নির্ভুল এবং নিয়মতান্ত্রিক। তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে রয়েছে খাঁটি নিয়ত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আন্তরিক চেষ্টা—এটাই রোজার প্রকৃত সৌন্দর্য।

সেহরি, ইফতার ও রোজার নিয়ত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে রমজানের ইবাদত আরও গভীর ও অর্থবহ হয়ে ওঠে। সুন্নত অনুযায়ী আমল করা এবং সঠিক সময় মেনে চলার মাধ্যমে আমরা এই বরকতময় মাসের রহমত, মাগফিরাত ও ফজিলত থেকে সর্বোচ্চ কল্যাণ লাভ করতে পারি।

Comments (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই

প্রথম মন্তব্য করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!

আপনার মন্তব্য লিখুন