বগুড়া জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

বগুড়া জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ সময়, আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ইবাদতের মাস। এই পবিত্র মাসে সঠিক সময়ে সাহরি ও ইফতার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের জন্য সারা দেশের ৬৪ জেলার আলাদা আলাদা সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করেছে। বগুড়া জেলা ও এর আশেপাশের রোজাদাররা সহজেই এই সময়সূচি অনুসরণ করতে পারবেন।

বগুড়া জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

রমজান মাস আমাদের জীবনে আসে আত্মশুদ্ধি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের একটি বিশেষ সুযোগ নিয়ে। এটি কেবল উপবাসের মাস নয়, বরং আল্লাহর আরও কাছে যাওয়ার, নিজের আচরণ ও মনোভাব পর্যালোচনা করার সময়। এই পবিত্র মাসে সেহরি ও ইফতার সঠিক সময়ে করা শুধু রেওয়াজ নয়, এটি রোজার মর্যাদা ও শুদ্ধতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জামালপুর জেলার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন যে নির্ভরযোগ্য সময়সূচি প্রকাশ করে, তা অনুসরণ করলে রোজা পালন হয় সহজ, সুনির্দিষ্ট এবং সুশৃঙ্খল। তবে এর চেয়েও বড় গুরুত্বপূর্ণ হলো খাঁটি নিয়ত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আন্তরিক প্রচেষ্টা—এটাই রোজার আসল সৌন্দর্য।

 ভোলা জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

যদি সেহরি, ইফতার এবং রোজার নিয়ত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকে, তবে রমজানের ইবাদত হয়ে ওঠে আরও গভীর, মনোমুগ্ধকর এবং অর্থবহ। সুন্নতের অনুসরণ এবং সঠিক সময় মেনে চলার মাধ্যমে আমরা এই বরকতময় মাসের রহমত, মাগফিরাত ও ফজিলত থেকে সর্বোচ্চ কল্যাণ লাভ করতে পারি।

বগুড়া জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো

রমজান মাসটি তিনটি ভাগে বিভক্ত: রহমতের ১০ দিন, মাগফিরাতের ১০ দিন, এবং নাজাতের ১০ দিন। প্রতিদিনের সাহরী শেষ সময়, ফজরের ওয়াক্ত, এবং ইফতারের সময় নিচে দেওয়া হলো।

রহমতের ১০ দিন

দিনতারিখবারসাহরীর শেষ সময়ফজরের সময়ইফতারের সময়
১৯ ফেব্রুয়ারীবৃহস্পতি৫:১৫ am৫:১৮ am৬:০১ pm
২০ ফেব্রুয়ারীশুক্র৫:১৪ am৫:১৭ am৬:০১ pm
২১ ফেব্রুয়ারীশনি৫:১৪ am৫:১৭ am৬:০২ pm
২২ ফেব্রুয়ারীরবিবার৫:১৩ am৫:১৬ am৬:০২ pm
২৩ ফেব্রুয়ারীসোমবার৫:১২ am৫:১৫ am৬:০৩ pm
২৪ ফেব্রুয়ারীমঙ্গলবার৫:১১ am৫:১৪ am৬:০৩ pm
২৫ ফেব্রুয়ারীবুধবার৫:১১ am৫:১৪ am৬:০৪ pm
২৬ ফেব্রুয়ারীবৃহস্পতি৫:১০ am৫:১৩ am৬:০৪ pm
২৭ ফেব্রুয়ারীশুক্র৫:০৯ am৫:১২ am৬:০৫ pm
১০২৮ ফেব্রুয়ারীশনি৫:০৮ am৫:১১ am৬:০৫ pm

মাগফিরাতের ১০ দিন

দিনতারিখবারসাহরীর শেষ সময়ফজরের সময়ইফতারের সময়
১১০১ মার্চরবিবার৫:০৮ am৫:১১ am৬:০৬ pm
১২০২ মার্চসোমবার৫:০৭ am৫:১০ am৬:০৬ pm
১৩০৩ মার্চমঙ্গলবার৫:০৬ am৫:০৯ am৬:০৭ pm
১৪০৪ মার্চবুধবার৫:০৫ am৫:০৮ am৬:০৭ pm
১৫০৫ মার্চবৃহস্পতি৫:০৪ am৫:০৭ am৬:০৮ pm
১৬০৬ মার্চশুক্র৫:০৩ am৫:০৬ am৬:০৮ pm
১৭০৭ মার্চশনি৫:০২ am৫:০৫ am৬:০৯ pm
১৮০৮ মার্চরবিবার৫:০১ am৫:০৪ am৬:০৯ pm
১৯০৯ মার্চসোমবার৫:০০ am৫:০৩ am৬:১০ pm
২০১০ মার্চমঙ্গলবার৫:০০ am৪:৫২ am৬:১০ pm

নাজাতের ১০ দিন

দিনতারিখবারসাহরীর শেষ সময়ফজরের সময়ইফতারের সময়
২১১১ মার্চবুধবার৪:৫৯ am৫:০১ am৬:১০ pm
২২১২ মার্চবৃহস্পতি৪:৫৮ am৫:০০ am৬:১১ pm
২৩১৩ মার্চশুক্র৪:৫৭ am৫:০০ am৬:১১ pm
২৪১৪ মার্চশনি৪:৫৬ am৪:৫৯ am৬:১২ pm
২৫১৫ মার্চরবিবার৪:৫৫ am৪:৫৮ am৬:১২ pm
২৬১৬ মার্চসোমবার৪:৫৪ am৪:৫৭ am৬:১৩ pm
২৭১৭ মার্চমঙ্গলবার৪:৫৩ am৪:৫৬ am৬:১৩ pm
২৮১৮ মার্চবুধবার৪:৫২ am৪:৫৫ am৬:১৩ pm
২৯১৯ মার্চবৃহস্পতি৪:৫১ am৪:৫৩ am৬:১৪ pm
৩০২০ মার্চশুক্র৪:৫০ am৪:৫২ am৬:১৪ pm

দ্রষ্টব্য: প্রতিদিন সাহরী শেষ হওয়ার সময় অনুযায়ী খাওয়া শেষ করা উচিত এবং ইফতারের সময় অনুযায়ী রোজা খোলা উচিত।

রোজার আরবি নিয়ত

نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم

রোজার নিয়তের বাংলা উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

রোজার নিয়তের অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়ত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোজা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

ইফতারের দোয়া আরবি উচ্চারণ

بسم الله اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ

ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু।

ইফতারের দোয়ার বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিজিজের মাধ্যমে  ইফতার করছি। (মুআজ ইবনে জাহরা থেকে বর্ণিত, আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৮)

বগুড়া জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ ইমেজ ডাউনলোড

উপসংহার

রমজান আমাদের জীবনে এক বিশেষ পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে আসে—নিজেকে পরিশুদ্ধ করার, ধৈর্য্য ও সংযম চর্চার এবং আল্লাহর আরও কাছে যাওয়ার একটি অনন্য মুহূর্ত। এই পবিত্র মাসে সেহরি ও ইফতার ঠিক সময়ে করা কেবল নিয়ম নয়, এটি রোজার পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা করার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বগুড়া জেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চললে রোজা পালন করা হয় সহজ, সঠিক এবং নিয়মতান্ত্রিক। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো খাঁটি নিয়ত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আন্তরিক প্রচেষ্টা—রোজার আসল সৌন্দর্য এখানেই নিহিত।

যদি সেহরি, ইফতার ও রোজার নিয়ত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকে, তবে রমজানের ইবাদত আরও গভীর ও অর্থবহ হয়ে ওঠে। সুন্নতের পথে চলা এবং সঠিক সময় মেনে ইবাদত করা আমাদের এই বরকতময় মাসের রহমত, মাগফিরাত ও ফজিলত থেকে সর্বোচ্চ কল্যাণ ভোগ করার পথ খুলে দেয়।

Comments (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই

প্রথম মন্তব্য করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!

আপনার মন্তব্য লিখুন