ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ অনুযায়ী কক্সবাজার জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ পবিত্র রমজান ২০২৬ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সারা দেশের ৬৪টি জেলার জন্য পৃথক সাহ্রি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করেছে। এবার কক্সবাজার জেলার জন্যও আলাদা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, ফলে ঢাকার সময়ের সঙ্গে যোগ-বিয়োগ করার প্রয়োজন নেই।
চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই রমজান শুরু হবে। নিচে কক্সবাজার জেলার সম্ভাব্য সময়সূচি দেওয়া হলো (ঢাকার সময় থেকে ভৌগোলিক পার্থক্যের কারণে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে)। সঠিক সময় নিশ্চিত করতে স্থানীয় মসজিদের ঘোষণা অনুসরণ করা উত্তম।
কুমিল্লা জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬
রোজার আরবি নিয়ত
نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم
রোজার নিয়তের বাংলা উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।
রোজার নিয়তের অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়ত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোজা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।
ইফতারের দোয়া আরবি উচ্চারণ
بسم الله اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ
ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু।
ইফতারের দোয়ার বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিজিজের মাধ্যমে ইফতার করছি। (মুআজ ইবনে জাহরা থেকে বর্ণিত, আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৮)
কক্সবাজার জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬
রহমতের ১০ দিন
| রোজা | তারিখ | বার | সাহরির সতর্কতামূলক শেষ সময় | ফজর শুরু | ইফতার |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ১৯ ফেব্রুয়ারি | বৃহস্পতিবার | ৫:০৪ am | ৫:০৭ am | ৫:৫৩ pm |
| ২ | ২০ ফেব্রুয়ারি | শুক্রবার | ৫:০৩ am | ৫:০৬ am | ৫:৫৩ pm |
| ৩ | ২১ ফেব্রুয়ারি | শনিবার | ৫:০৩ am | ৫:০৬ am | ৫:৫৪ pm |
| ৪ | ২২ ফেব্রুয়ারি | রবিবার | ৫:০২ am | ৫:০৫ am | ৫:৫৪ pm |
| ৫ | ২৩ ফেব্রুয়ারি | সোমবার | ৫:০১ am | ৫:০৪ am | ৫:৫৫ pm |
| ৬ | ২৪ ফেব্রুয়ারি | মঙ্গলবার | ৫:০০ am | ৫:০৩ am | ৫:৫৫ pm |
| ৭ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | বুধবার | ৫:০০ am | ৫:০৩ am | ৫:৫৬ pm |
| ৮ | ২৬ ফেব্রুয়ারি | বৃহস্পতিবার | ৪:৫৯ am | ৫:০২ am | ৫:৫৬ pm |
| ৯ | ২৭ ফেব্রুয়ারি | শুক্রবার | ৪:৫৮ am | ৫:০১ am | ৫:৫৭ pm |
| ১০ | ২৮ ফেব্রুয়ারি | শনিবার | ৪:৫৭ am | ৫:০০ am | ৫:৫৭ pm |
মাগফিরাতের ১০ দিন
| রোজা | তারিখ | বার | সাহরির সতর্কতামূলক শেষ সময় | ফজর শুরু | ইফতার |
|---|---|---|---|---|---|
| ১১ | ১ মার্চ | রবিবার | ৪:৫৭ am | ৫:০০ am | ৫:৫৮ pm |
| ১২ | ২ মার্চ | সোমবার | ৪:৫৬ am | ৪:৫৯ am | ৫:৫৮ pm |
| ১৩ | ৩ মার্চ | মঙ্গলবার | ৪:৫৫ am | ৪:৫৮ am | ৫:৫৯ pm |
| ১৪ | ৪ মার্চ | বুধবার | ৪:৫৪ am | ৪:৫৭ am | ৫:৫৯ pm |
| ১৫ | ৫ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৪:৫৩ am | ৪:৫৬ am | ৬:০০ pm |
| ১৬ | ৬ মার্চ | শুক্রবার | ৪:৫২ am | ৪:৫৫ am | ৬:০০ pm |
| ১৭ | ৭ মার্চ | শনিবার | ৪:৫১ am | ৪:৫৪ am | ৬:০১ pm |
| ১৮ | ৮ মার্চ | রবিবার | ৪:৫০ am | ৪:৫৩ am | ৬:০১ pm |
| ১৯ | ৯ মার্চ | সোমবার | ৪:৪৯ am | ৪:৫২ am | ৬:০২ pm |
| ২০ | ১০ মার্চ | মঙ্গলবার | ৪:৪৯ am | ৪:৫১ am | ৬:০২ pm |
নাজাতের ১০ দিন
| রোজা | তারিখ | বার | সাহরির সতর্কতামূলক শেষ সময় | ফজর শুরু | ইফতার |
|---|---|---|---|---|---|
| ২১ | ১১ মার্চ | বুধবার | ৪:৪৮ am | ৪:৫০ am | ৬:০২ pm |
| ২২ | ১২ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৪:৪৭ am | ৪:৪৯ am | ৬:০৩ pm |
| ২৩ | ১৩ মার্চ | শুক্রবার | ৪:৪৬ am | ৪:৪৯ am | ৬:০৩ pm |
| ২৪ | ১৪ মার্চ | শনিবার | ৪:৪৫ am | ৪:৪৮ am | ৬:০৪ pm |
| ২৫ | ১৫ মার্চ | রবিবার | ৪:৪৪ am | ৪:৪৭ am | ৬:০৪ pm |
| ২৬ | ১৬ মার্চ | সোমবার | ৪:৪৩ am | ৪:৪৬ am | ৬:০৫ pm |
| ২৭ | ১৭ মার্চ | মঙ্গলবার | ৪:৪২ am | ৪:৪৫ am | ৬:০৫ pm |
| ২৮ | ১৮ মার্চ | বুধবার | ৪:৪১ am | ৪:৪৪ am | ৬:০৫ pm |
| ২৯ | ১৯ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৪:৪০ am | ৪:৪২ am | ৬:০৬ pm |
| ৩০ | ২০ মার্চ | শুক্রবার | ৪:৩৯ am | ৪:৪১ am | ৬:০৬ pm |
সাহরি, ইফতারের গুরুত্ব ও ফজিলত
রোজা মানে শুধু সাহরি খেয়ে দিনের বেলা না খেয়ে থাকা নয়। রোজার আসল ভিত্তি হলো নিয়ত—অর্থাৎ হৃদয়ের ভেতরের সৎ সিদ্ধান্ত। নিয়ত বলতে কোনো নির্দিষ্ট আরবি বাক্য উচ্চারণ করাকে বোঝায় না; বরং এটি হলো আন্তরিকভাবে স্থির করা—আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আজ রোজা পালন করছি।
ভোরে ঘুম থেকে উঠে যখন মনে রোজা রাখার প্রস্তুতি আসে, কিংবা সাহরির সময় বসে যখন নিজের মনে দৃঢ়ভাবে ঠিক করি যে আজকের দিনটি ইবাদতের জন্য উৎসর্গ করব—সেই মনোভাবই প্রকৃত নিয়ত। এটি শব্দের বিষয় নয়, বরং মনের গভীর অঙ্গীকার।
তাই নিয়ত মুখে জোরে বলা জরুরি নয়। অন্তরে যদি পরিষ্কার ইচ্ছা, সচেতনতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের দৃঢ় সংকল্প থাকে, তবে সেই রোজাই সঠিক ও গ্রহণযোগ্য।
আমাদের দেশে অনেকেই প্রচলিত কিছু আরবি নিয়তের বাক্য পড়ে থাকেন। এগুলো পড়লে কোনো সমস্যা নেই; তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। কারণ রোজার শক্তি নির্ভর করে উচ্চারিত শব্দের ওপর নয়, বরং অন্তরের নিষ্ঠা ও সত্যতার ওপর। হৃদয়ের গভীর ইচ্ছাই রোজার প্রকৃত ভিত্তি।
কক্সবাজার জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ ইমেজ ডাউনলোড

২৮ জুন ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে প্রণীত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নামাজের সময়সূচি নির্ধারণ কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকাশিত ১৪৪৩ হিজরী (২০২২ খ্রিস্টাব্দ) সালের সাহরি ও ইফতারের সময়সূচিতে ঢাকার সময়কে ভিত্তি ধরা হয়েছে। সেই হিসেবে চট্টগ্রাম জেলার সেহেরি ও ইফতারের সময়ের সঙ্গে ঢাকার সময়ের যে পার্থক্য রয়েছে, তা উপরের টেবিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় (অটো যোগ) করা হয়েছে।
উপসংহার
রমজান এমন এক পবিত্র মাস, যা মানুষের হৃদয়ে নতুন চেতনা জাগায় এবং জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করার শক্তি দেয়। এটি শুধু না খেয়ে থাকার মাস নয়; বরং আত্মসংযম শেখা, ধৈর্য গড়ে তোলা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সময়। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে সেহরি ও ইফতার সম্পন্ন করা রোজার সৌন্দর্য ও পূর্ণতা বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কক্সবাজার জেলার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন নির্ধারিত সঠিক সময়সূচি অনুসরণ করলে রোজা পালন হয় আরও নিয়মতান্ত্রিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আন্তরিক নিয়ত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সত্যিকারের আকাঙ্ক্ষা। সেহরি, ইফতার ও রোজার নিয়ত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে ইবাদতে মনোযোগ ও প্রশান্তি দুটোই বৃদ্ধি পায়। সুন্নাহ মেনে চলা এবং সময়ের ব্যাপারে সচেতন থাকা আমাদেরকে রমজানের রহমত, মাগফিরাত ও অগণিত ফজিলত লাভের আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!