খুলনা জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ রমজান একটি পবিত্র মাস, যা মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ইবাদত এবং সংযমের মাস হিসেবে পরিচিত। এই মাসে সঠিক সময়ে সাহরি ও ইফতার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ২০২৬ সালের জন্য দেশের ৬৪টি জেলার আলাদা আলাদা সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করেছে। এতে করে ঢাকার সময়ের সঙ্গে দূরত্ব হিসাব করে সময় যোগ-বিয়োগ করার ঝামেলা আর থাকবে না।
খুলনা জেলার রোজাদাররা তাদের জেলার নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করে সহজেই সাহরি ও ইফতার করতে পারবেন। নিচে খুলনা জেলার জন্য ২০২৬ সালের সেহরি ও ইফতারের বিস্তারিত সময়সূচি দেওয়া হলো।
খুলনা জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬
ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর প্রকাশিত রোজার সময়সূচী অনুযায়ী, সম্ভাব্য রোজা শুরু হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যা বৃহস্পতিবার পড়বে। এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত হবে তারাবি নামাজ, এবং সেই রাতেই সেহরির আয়োজন হবে।
খুলনা জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
রমজান মাসকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দশকের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়েছে: রহমতের ১০ দিন, মাগফিরাতের ১০ দিন, এবং নাজাতের ১০ দিন। প্রতিদিনের জন্য সাহর ও ইফতারের সময়ের পাশাপাশি ফজরের শেষ সময়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
রহমতের ১০ দিন
| দিন | তারিখ | বার | সাহরের শেষ সময় | ফজরের সময় | ইফতারের সময় |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ১৯ ফেব্রুয়ারী | বৃহস্পতি | ৫:১৫ am | ৫:১৮ am | ৬:০২ pm |
| ২ | ২০ ফেব্রুয়ারী | শুক্রবার | ৫:১৪ am | ৫:১৭ am | ৬:০২ pm |
| ৩ | ২১ ফেব্রুয়ারী | শনিবার | ৫:১৪ am | ৫:১৭ am | ৬:০৩ pm |
| ৪ | ২২ ফেব্রুয়ারী | রবিবার | ৫:১৩ am | ৫:১৬ am | ৬:০৩ pm |
| ৫ | ২৩ ফেব্রুয়ারী | সোমবার | ৫:১২ am | ৫:১৫ am | ৬:০৪ pm |
| ৬ | ২৪ ফেব্রুয়ারী | মঙ্গলবার | ৫:১১ am | ৫:১৪ am | ৬:০৪ pm |
| ৭ | ২৫ ফেব্রুয়ারী | বুধবার | ৫:১১ am | ৫:১৪ am | ৬:০৫ pm |
| ৮ | ২৬ ফেব্রুয়ারী | বৃহস্পতি | ৫:১০ am | ৫:১৩ am | ৬:০৫ pm |
| ৯ | ২৭ ফেব্রুয়ারী | শুক্রবার | ৫:০৯ am | ৫:১২ am | ৬:০৬ pm |
| ১০ | ২৮ ফেব্রুয়ারী | শনিবার | ৫:০৮ am | ৫:১১ am | ৬:০৬ pm |
মাগফিরাতের ১০ দিন
| দিন | তারিখ | বার | সাহরের শেষ সময় | ফজরের সময় | ইফতারের সময় |
|---|---|---|---|---|---|
| ১১ | ০১ মার্চ | রবিবার | ৫:০৮ am | ৫:১১ am | ৬:০৭ pm |
| ১২ | ০২ মার্চ | সোমবার | ৫:০৭ am | ৫:১০ am | ৬:০৭ pm |
| ১৩ | ০৩ মার্চ | মঙ্গলবার | ৫:০৬ am | ৫:০৯ am | ৬:০৮ pm |
| ১৪ | ০৪ মার্চ | বুধবার | ৫:০৫ am | ৫:০৮ am | ৬:০৮ pm |
| ১৫ | ০৫ মার্চ | বৃহস্পতি | ৫:০৪ am | ৫:০৭ am | ৬:০৯ pm |
| ১৬ | ০৬ মার্চ | শুক্রবার | ৫:০৩ am | ৫:০৬ am | ৬:০৯ pm |
| ১৭ | ০৭ মার্চ | শনিবার | ৫:০২ am | ৫:০৫ am | ৬:১০ pm |
| ১৮ | ০৮ মার্চ | রবিবার | ৫:০১ am | ৫:০৪ am | ৬:১০ pm |
| ১৯ | ০৯ মার্চ | সোমবার | ৫:০০ am | ৫:০৩ am | ৬:১১ pm |
| ২০ | ১০ মার্চ | মঙ্গলবার | ৫:০০ am | ৪:৫২ am | ৬:১১ pm |
নাজাতের ১০ দিন
| দিন | তারিখ | বার | সাহরের শেষ সময় | ফজরের সময় | ইফতারের সময় |
|---|---|---|---|---|---|
| ২১ | ১১ মার্চ | বুধবার | ৪:৫৯ am | ৫:০১ am | ৬:১১ pm |
| ২২ | ১২ মার্চ | বৃহস্পতি | ৪:৫৮ am | ৫:০০ am | ৬:১২ pm |
| ২৩ | ১৩ মার্চ | শুক্রবার | ৪:৫৭ am | ৫:০০ am | ৬:১২ pm |
| ২৪ | ১৪ মার্চ | শনিবার | ৪:৫৬ am | ৪:৫৯ am | ৬:১৩ pm |
| ২৫ | ১৫ মার্চ | রবিবার | ৪:৫৫ am | ৪:৫৮ am | ৬:১৩ pm |
| ২৬ | ১৬ মার্চ | সোমবার | ৪:৫৪ am | ৪:৫৭ am | ৬:১৪ pm |
| ২৭ | ১৭ মার্চ | মঙ্গলবার | ৪:৫৩ am | ৪:৫৬ am | ৬:১৪ pm |
| ২৮ | ১৮ মার্চ | বুধবার | ৪:৫২ am | ৪:৫৫ am | ৬:১৪ pm |
| ২৯ | ১৯ মার্চ | বৃহস্পতি | ৪:৫১ am | ৪:৫৩ am | ৬:১৫ pm |
| ৩০ | ২০ মার্চ | শুক্রবার | ৪:৫০ am | ৪:৫২ am | ৬:১৫ pm |
২৮ জুন ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে প্রনীত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নামাজের সময়সূচি নির্ধারণ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত ১৪৪৩ হিজরী (২০২২ খ্রিস্টাব্দ) সালের সাহরী ও ইফতারের সময়সূচিতে ঢাকার সময়ের সঙ্গে খুলনা জেলার সময়ের পার্থক্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপরের টেবিলে যোগ করা হয়েছে।
খুলনা জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ ইমেজ ডাউনলোড
আমরা ২০২৬ সালের রোজার সময়সূচি তিন ভাগে ভাগ করেছি, যা উপরের তালিকায় দেখতে পাবেন। হাদিসে এসেছে, রমজানের প্রথম দশ দিন রহমতের, মাঝের দশ দিন মাগফিরাতের এবং শেষের দশ দিন নাজাতের জন্য বিশেষ।
মেহেরপুর জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬
রমজানের সময়সূচির পাশাপাশি আমরা পঞ্চ-ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচিও অন্তর্ভুক্ত করেছি। এই সময়সূচি তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল নামাজের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে, যাতে প্রতিটি জেলায় আলাদা নামাজের ক্যালেন্ডার পাওয়া যায়।

রোজার আরবি নিয়ত
نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم
রোজার নিয়তের বাংলা উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।
রোজার নিয়তের অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়ত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোজা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।
ইফতারের দোয়া আরবি উচ্চারণ
بسم الله اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ
ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু।
ইফতারের দোয়ার বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিজিজের মাধ্যমে ইফতার করছি। (মুআজ ইবনে জাহরা থেকে বর্ণিত, আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৮)
সাহরি, ইফতারের গুরুত্ব ও ফজিলত
রোজা মানে শুধু সাহরি ও ইফতারের সময় খাওয়া না খাওয়া নয়; মূল বিষয় হলো সঠিক নিয়ত করা। নিয়ত কোনো নির্দিষ্ট বাক্য মুখে বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি হলো ভোরে ঘুম থেকে উঠেই রোজা রাখার প্রস্তুতি নেওয়া এবং সাহরি খেতে খেতে মনের মধ্যে সেই উদ্দেশ্য স্থির করা—এই মনোভাবটিই আসল নিয়ত।
নিয়ত হলো অন্তরের দৃঢ় সংকল্প, একটি আন্তরিক প্রতিজ্ঞা। তাই মুখে উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়। যদি হৃদয়ে রোজা রাখার দৃঢ় প্রত্যয় থাকে, তা যথেষ্ট, আর সেই রোজা বৈধ।
বাংলাদেশে কিছু প্রচলিত আরবি নিয়তও রয়েছে, যা অনেকে পড়ে থাকেন। যদিও এগুলো সরাসরি হাদিস বা ফিকাহর বইতে উল্লেখিত নয়, ইচ্ছা করলে পড়া যায়। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো—নিয়ত থাকুক হৃদয়ে, অন্তরের স্থির সংকল্পেই রোজার প্রকৃত শক্তি।
উপসংহার
রমজান আমাদের জীবনে আনে এক বিশেষ উপলক্ষ—নিজেকে শুদ্ধ করার, ধৈর্য ও সংযমের শিক্ষা নেওয়ার এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ। এই পবিত্র মাসে সেহরি ও ইফতার নির্ধারিত সময়ে গ্রহণ করা কেবল একটি নিয়ম নয়; এটি রোজার মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খুলনা জেলার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক নির্ধারিত সঠিক সময়সূচি অনুসরণ করলে রোজা পালন করা হয় সহজ, সঠিক এবং নিয়মমাফিক।
কিন্তু সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো খাঁটি নিয়ত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আন্তরিক চেষ্টা। এটাই রোজার আসল সৌন্দর্য। সেহরি, ইফতার ও রোজার নিয়ত সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকলে আমাদের ইবাদত আরও অর্থবহ হয়। সুন্নতের পথে চলা এবং নির্ধারিত সময় মানা আমাদেরকে রমজানের রহমত, মাগফিরাত এবং ফজিলতের পূর্ণ সুবিধা ভোগ করতে সাহায্য করে।
আপনার মন্তব্য লিখুন