কিশোরগঞ্জ জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

কিশোরগঞ্জ জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত রমজান ২০২৬ সালের সাহ্‌রি ও ইফতারের সময়সূচি অনুযায়ী এ বছর দেশের ৬৪টি জেলার জন্য আলাদা আলাদা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে কিশোরগঞ্জ জেলার মুসল্লিদের আর ঢাকার সময়ের সঙ্গে যোগ-বিয়োগ করে সময় মিলিয়ে নিতে হবে না।

 গাজীপুর জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই রমজান শুরু হবে। তাই নিচের সময়সূচি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে চাঁদ দেখার ঘোষণার পর।

কিশোরগঞ্জ জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

নিচে কিশোরগঞ্জ জেলার জন্য ৩০ দিনের সম্ভাব্য সাহ্‌রি, ফজর ও ইফতারের সময়সূচি দেওয়া হলো (ঢাকার সময়ের সঙ্গে ভৌগোলিক পার্থক্য অনুযায়ী সামান্য সমন্বিত) রমজান মাসকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে: রহমতের ১০ দিন, মাগফিরাতের ১০ দিন, এবং নাজাতের ১০ দিন। প্রতিদিনের সাহরীর শেষ সময়, ফজরের ওয়াক্ত, এবং ইফতারের সময় নিচে দেওয়া হলো।

রহমতের ১০ দিন

দিনতারিখবারসাহরীর শেষ সময়ফজরের ওয়াক্তইফতারের সময়
১৯ ফেব্রুয়ারীবৃহস্পতি৫:০৯ AM৫:১২ AM৫:৫৫ PM
২০ ফেব্রুয়ারীশুক্র৫:০৮ AM৫:১১ AM৫:৫৫ PM
২১ ফেব্রুয়ারীশনি৫:০৮ AM৫:১১ AM৫:৫৬ PM
২২ ফেব্রুয়ারীরবি৫:০৭ AM৫:১০ AM৫:৫৬ PM
২৩ ফেব্রুয়ারীসোম৫:০৬ AM৫:০৯ AM৫:৫৭ PM
২৪ ফেব্রুয়ারীমঙ্গল৫:০৫ AM৫:০৮ AM৫:৫৭ PM
২৫ ফেব্রুয়ারীবুধ৫:০৫ AM৫:০৮ AM৫:৫৮ PM
২৬ ফেব্রুয়ারীবৃহস্পতি৫:০৪ AM৫:০৭ AM৫:৫৮ PM
২৭ ফেব্রুয়ারীশুক্র৫:০৩ AM৫:০৬ AM৫:৫৯ PM
১০২৮ ফেব্রুয়ারীশনি৫:০২ AM৫:০৫ AM৫:৫৯ PM

মাগফিরাতের ১০ দিন

দিনতারিখবারসাহরীর শেষ সময়ফজরের ওয়াক্তইফতারের সময়
১১০১ মার্চরবি৫:০২ AM৫:০৫ AM৬:০০ PM
১২০২ মার্চসোম৫:০১ AM৫:০৪ AM৬:০০ PM
১৩০৩ মার্চমঙ্গল৫:০০ AM৫:০৩ AM৬:০১ PM
১৪০৪ মার্চবুধ৪:৫৯ AM৫:০২ AM৬:০১ PM
১৫০৫ মার্চবৃহস্পতি৪:৫৮ AM৫:০১ AM৬:০২ PM
১৬০৬ মার্চশুক্র৪:৫৭ AM৫:০০ AM৬:০২ PM
১৭০৭ মার্চশনি৪:৫৬ AM৪:৫৯ AM৬:০৩ PM
১৮০৮ মার্চরবি৪:৫৫ AM৪:৫৮ AM৬:০৩ PM
১৯০৯ মার্চসোম৪:৫৪ AM৪:৫৭ AM৬:০৪ PM
২০১০ মার্চমঙ্গল৪:৫৪ AM৪:৫৬ AM৬:০৪ PM

নাজাতের ১০ দিন

দিনতারিখবারসাহরীর শেষ সময়ফজরের ওয়াক্তইফতারের সময়
২১১১ মার্চবুধ৪:৫৩ AM৪:৫৫ AM৬:০৪ PM
২২১২ মার্চবৃহস্পতি৪:৫২ AM৪:৫৪ AM৬:০৫ PM
২৩১৩ মার্চশুক্র৪:৫১ AM৪:৫৪ AM৬:০৫ PM
২৪১৪ মার্চশনি৪:৫০ AM৪:৫৩ AM৬:০৬ PM
২৫১৫ মার্চরবি৪:৪৯ AM৪:৫২ AM৬:০৬ PM
২৬১৬ মার্চসোম৪:৪৮ AM৪:৫১ AM৬:০৭ PM
২৭১৭ মার্চমঙ্গল৪:৪৭ AM৪:৫০ AM৬:০৭ PM
২৮১৮ মার্চবুধ৪:৪৬ AM৪:৪৯ AM৬:০৭ PM
২৯১৯ মার্চবৃহস্পতি৪:৪৫ AM৪:৪৭ AM৬:০৮ PM
৩০২০ মার্চশুক্র৪:৪৪ AM৪:৪৬ AM৬:০৮ PM

রোজার আরবি নিয়ত

نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم

রোজার নিয়তের বাংলা উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

রোজার নিয়তের অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়ত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোজা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

ইফতারের দোয়া আরবি উচ্চারণ

بسم الله اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ

ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু।

ইফতারের দোয়ার বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিজিজের মাধ্যমে  ইফতার করছি। (মুআজ ইবনে জাহরা থেকে বর্ণিত, আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৮)

কিশোরগঞ্জ জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ ইমেজ ডাউনলোড

সাহরি, ইফতারের গুরুত্ব ও ফজিলত

রমজান মাস আমাদের জীবনের এক বিশেষ ও পবিত্র সময়, যা হৃদয়কে শুদ্ধ করে, মনকে সতেজ করে এবং আধ্যাত্মিক শক্তিতে ভরিয়ে তোলে। এটি কেবল রোজার মাস নয়, বরং আত্মসংযম, ধৈর্য এবং আল্লাহর নৈকট্য উপলব্ধির এক অসাধারণ সুযোগ। সেহরি ও ইফতার যথাসময়ে গ্রহণ করলে রোজার আসল সৌন্দর্য এবং বরকত ধরে রাখা সম্ভব হয়।

কিশোরগঞ্জ মুসলিমরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করে সহজ, শান্তিপূর্ণ এবং নিয়মিতভাবে রোজা পালন করতে পারেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আন্তরিক নিয়ত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গভীর ইচ্ছা। সেহরি, ইফতার ও রোজার নিয়ত সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে ইবাদতে মনোযোগ বেড়ে যায় এবং অন্তরে শান্তি আসে।

সুন্নাহর পথে চলা এবং সময়কে মূল্য দেওয়া আমাদের রমজানকে রহমত, মাগফিরাত এবং অসংখ্য ফজিলতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ করে। এর মাধ্যমে আমরা রোজার প্রতি পুরো মনোযোগ দিতে পারি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে পারি।

উপসংহার

রমজান মাস শুধুমাত্র রোজা রাখার জন্য নয়; এটি আমাদের হৃদয় ও মনকে নতুন আলো এবং আধ্যাত্মিক শক্তিতে সমৃদ্ধ করার মাস। এই সময় আমাদের ধৈর্য্য, আত্মসংযম এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের প্রকৃত গুরুত্ব শেখায়। সঠিক সময়ে সেহরি ও ইফতার পালন করলে রোজার আনন্দ এবং তৃপ্তি অনেকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষভাবে, কিশোরগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করলে রোজা হয়ে ওঠে আরও সুশৃঙ্খল, সহজ এবং শান্তিপূর্ণ।

রমজানের আসল মাহাত্ম্য বোঝার জন্য প্রয়োজন খাঁটি নিয়ত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা। যখন সেহরি, ইফতার এবং রোজার নিয়মগুলো সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকে, তখন ইবাদতে মনোযোগ বেড়ে যায় এবং অন্তরে স্থিরতা আসে। সুন্নাহ অনুসরণ এবং সময়ের প্রতি সচেতন থাকা রমজানকে রহমত, মাগফিরাত এবং অসংখ্য ফজিলতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ করে তোলে।

Comments (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই

প্রথম মন্তব্য করুন এবং আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন!

আপনার মন্তব্য লিখুন